ডরিন পাওয়ারের নরসিংদী কেন্দ্রের চুক্তি বাতিল করেছে বিআরইবি

পুঁজিবাজারে বিদ্যুৎ খাতের তালিকাভুক্ত ডরিন পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেডের নরসিংদী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) বাতিল করেছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি)।

পুঁজিবাজারে বিদ্যুৎ খাতের তালিকাভুক্ত ডরিন পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেডের নরসিংদী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) বাতিল করেছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি)। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্যানুসারে, ১১ মার্চ এক চিঠির মাধ্যমে ডরিন পাওয়ারের নরসিংদীতে অবস্থিত ২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পিপিএ বাতিল করে বিআরইবি। গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি এক চিঠির মাধ্যমে ডরিন পাওয়ারকে নরসিংদী বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালুর অনুমোদন দিয়েছিল বিআরইবি। এর আগে পিপিএ মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর মধ্যরাত থেকে কেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি ডরিন পাওয়ারের ২২ মেগাওয়াট সক্ষমতার ফেনী বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর কোম্পানিটির ২২ মেগাওয়াটের টাঙ্গাইল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর থেকে বন্ধ রয়েছে।

অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) ২ টাকা ১ পয়সা, আগের হিসাব বছরের যা ছিল ২ টাকা ৮৩ পয়সা। আলোচ্য হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রন্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৫৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৩ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫১ টাকা ২৪ পয়সায় (পুনর্মূল্যায়িত)।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক বাদে বাকি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ডরিন পাওয়ারের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৮১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ৫৬ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৯ টাকা ৫৭ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক বাদে শেয়ারহোল্ডারদের ১১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ডরিন পাওয়ারের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৫৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৯ টাকা ২১ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৫০ টাকা ৪৭ পয়সায়।

ডরিন পাওয়ারের সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘এ প্লাস’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-থ্রি’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং প্রকাশের দিন পর্যন্ত কোম্পানিটির অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেট লিমিটেড (ক্রিসল)।

২০০৮ সালের নভেম্বরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে ডরিন পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেডের যাত্রা শুরু হয়। ২০১০ সালে ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন নর্দান ও সাউদার্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুটির বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়। ডরিন পাওয়ার ২০১৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

বর্তমানে কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৮১ কোটি ১১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৬৭২ কোটি ৭১ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ১৮ কোটি ১১ লাখ ১৮ হাজার ৯০১।

এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৬৬ দশমিক ৬১ শতাংশ শেয়ার। এছাড়া ১৮ দশমিক ১৬ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বাকি ১৫ দশমিক ২৩ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে।

আরও